বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ধর্ম

চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত মানবে না চট্টগ্রামবাসী, চট্টগ্রাম জামায়াত

চট্টগ্রাম

 

 

 

★ এনসিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা উচিত।

★ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা প্রদর্শনের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।

চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

১২ জুন(শুক্রবার) সকালে নগরীর জামালখানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিংবা ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টা দেশপ্রেমিক জনগণ প্রতিহত করবে।

তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে ব্যক্তিস্বার্থ ও অবৈধ সুবিধা অর্জনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। কিছু অসৎ শ্রমিক নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর যোগসাজশের কারণে প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কলুষমুক্ত রাখতে হবে।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, নগরীতে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিক রাজনীতির আড়ালে কিছু ব্যক্তি এসব অপকর্মে জড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিন্ডিকেটমুক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদস্পন্দন এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা প্রদর্শনের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের দোসররা বিভিন্ন খাতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি শ্রমিকদের নামে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লিগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহিম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

চট্টগ্রামে কোরবানির হাটের দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি জোরেশোরে চললেও এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। স্থায়ী হাটগুলো থেকে ভালো রাজস্ব এলেও অস্থায়ী হাটে আশানুরূপ দর না পাওয়ায় রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়ে এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। মুরাদপুরের বিবিরহাট ইজারা হয়েছে ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ২০২৫ সালে একই হাটের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়। তবে অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে চিত্র ভিন্ন। কর্ণফুলী অস্থায়ী পশুর হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা দর উঠলেও মুসলিমাবাদ মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ওয়াজেদিয়া হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দর পাওয়া গেছে। চসিকের অনুমোদিত ২২টি হাট-বাজারের মধ্যে ৬টি পশুর হাট থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে এবার অস্থায়ী হাটে কম দর, কোথাও টেন্ডার না হওয়া এবং খাস কালেকশন নিয়ে বিতর্কের কারণে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনলাইনে পশু বিক্রি বৃদ্ধি, ভাগাভাগি করে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা এবং খামার থেকে সরাসরি পশু কেনার কারণে প্রচলিত হাটের ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় অবৈধ হাট বসানোয় বৈধ হাটে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা, সিসিটিভি, কর্মচারী নিয়োগ ও অবকাঠামো তৈরির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের খরচও বেড়েছে। সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী বলেন, “৮ কোটি টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি। এখন সেই টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।” এদিকে খাস কালেকশন নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে কয়েক বছর ধরে চসিক ইজারার পরিবর্তে খাস কালেকশনে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে হাসিল আদায়, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, “অবৈধ পশুর হাটের কারণে প্রতিবছর রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি যানজট, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। তাই এবার অবৈধ হাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চসিক।” তিনি জানান, অনুমোদিত হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের ব্যবস্থা থাকবে। চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, “অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।” জেলা প্রশাসনের অনুমোদন অনুযায়ী এবার চসিক এলাকায় ৩টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। অস্থায়ী হাটগুলো ১৯ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য পরিচালিত হবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে এবং যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ হাটে নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করা গেলেও অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে চসিকের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

আরও খবর

news image

নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে অটোরিকশার ধাক্কায় গনিতের শিক্ষক নিহত

news image

ঝিনাইদহে জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত 

news image

বারহাট্টা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার উপর অর্পিত কর্মকে ধর্মের ন্যায় পালন করছেন

news image

আজ পবিত্র জুম্মা ও আশুরা

news image

গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় কালিমার পতাকা নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন

news image

চকরাজাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগলু শিকদারের মাজার জিয়ারত

news image

হরিপুরে ইমামতি শেষে বিদায়, অশ্রুসজল চোখে প্রিয় ইমামকে সম্মান জানালেন 

news image

চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত মানবে না চট্টগ্রামবাসী, চট্টগ্রাম জামায়াত

news image

কটিয়াদীতে বাবার জানাজার আগে ঢোল-বাঁশি! সমালোচনার ঝড়ে শেষমেশ ক্ষমা চাইলেন ছেলে