আবু রায়হান,মণিরামপুর (যশোর): ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৯ এ.এম
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও হাতে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র—ক্ষোভ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও হাতে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র—ক্ষোভ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের
আবু রায়হান,মণিরামপুর (যশোর):
যশোরের মণিরামপুরে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র-যা সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও উদাসীনতার নগ্ন উদাহরণ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা উপজেলার মাছনা গ্রামের যমজ দুই ভাই জিহান ও রিহান। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞান বিভাগে প্রস্তুতি নেওয়া এই দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে এসে জানতে পারে, তাদের প্রবেশপত্রে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক দেখানো হয়েছে। এতে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনকে জানানো হলেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছেন। সংশোধনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভুল প্রবেশপত্রই শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন-যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে এমন অব্যবস্থাপনা শুধু অবহেলা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্মম ছিনিমিনি খেলার সামিল। পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তারা।
এ ঘটনায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে বলেন, রেজিস্ট্রেশন পর্যায়েই এই ভুল সংশোধনের সুযোগ ছিল। বিদ্যালয়ের গাফিলতি ছাড়া এমন ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ২১ এপ্রিলের আগেই এই জটিলতা নিরসন করে তাদের সঠিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন দায়িত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী একই ভোগান্তির শিকার হবে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরীক্ষার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এখন দেখার বিষয়-শেষ মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারে, নাকি গাফিলতির দায়ে তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও হাতে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র—ক্ষোভ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের
কটিয়াদীতে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎবিহীন বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত; অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে শুরু হচ্ছে পিঠা উৎসব-২০২৬
সিরাজগঞ্জের উন্নয়নই আমাদের একমাত্র দাবি
সিরাজগঞ্জ কল্যাণ ট্রাস্ট শিক্ষা বৃত্তি–২০২৬ (আবেদন আহ্বান)
চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন জসীম উদ্দীনঃ মাগুরা প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী উপমা দত্ত (২৩) এর শেষকৃত্য ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টায় মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মহাশ্মশানে তার দাহ সম্পন্ন হয়। গত ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল কক্ষ থেকে উপমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ। জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কক্ষটিতে একাই ছিলেন। আজ (৩১ জানুয়ারী) শনিবার ভোর ৫টায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাবা সন্দিপ কুমার দত্ত (শিক্ষক, সর্বসাংদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ও স্বজনরা দিশেহারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উপমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো 'প্রেমঘটিত জটিলতা' নাকি অন্য কোনো মানসিক চাপ কাজ করছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা তাকে মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে হিসেবেই জানতেন। তাদের মতে, এমন হাসি-খুশি ও ভালো একটি মেয়ে কেন এই পথ বেছে নিল, তা তারা কল্পনাও করতে পারছেন না। উপমার মৃত্যুতে কেবল তার পরিবার নয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে। একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে ঝরে পড়া আবারও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের বিষয়টি সামনে নিয়ে এলো।